নাম জীবন
Book information
Description
/ “ নাম জীবন” এই সময় পত্রিকার রবিবাসরীয়তে ধারাবাহিক ভাবে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের এই স্মৃতিচারন একটি ঐতিহাসিক মুল্য আছে। জান না এই সঙ্কলন বই আকারে প্রকাশ হয়েছে কিনা । চেষ্টা করলাম যত গুলো লেখা প্রকাশিত হয়ে ছিল তার অধিকাংশ পেয়েছি মনে হয়। শেষে তিনটি লেখা ফেলুদা সংক্রান্ত ও অভিনেতা সম্বন্ধে । আমার মনে হলো এটা পছন্দ হবে সবার। জার্নাল বলতে আমি যা বুঝি এবং অন্যান্য ‘জার্নাল’ জিনিসটার একটা চরিত্র আছে৷ নিজের কথা বলা, নিজের কথা না-বলা, নিজেকে লুকিয়ে নিজের কথা বলা, এমন অনেক কাজ সেখানে করে হয়৷ বাংলায় অনেকেই এই জিনিসটা লেখার চেষ্টা করেননি, আর লিখলেও হাতেগোনা লোকই এই ফর্মটা খুব সফল ভাবে ধরতে পেরেছেন৷ ‘সাত পাকে বাঁধা’ ছবির আউটডোর হল রাজস্থানে সুচিত্রা সেনকে চিনতাম অন্য যে কোনও বঙ্গীয় যুবকেরই মতো৷ তার পর, আমার অভিনয়ের জগতে প্রবেশ এবং এক সময় সেই সুচিত্রা সেনের বিরীতেই অভিনয়ের সুযোগ৷ গত কয়েক দিন ধরে একটি প্রশ্ন অনুচ্চ এবং উচ্চকিত উভয় ধাঁচেই আমার কাছে এসেছে৷ ভালো আর মন্দের দ্বন্দ্ব জানি নাকে ভালো কে মন্দ যে তার খবর রাখি না ‘সোনার কেল্লা’য় মুকুল বলেছিল ‘দুষ্টু লোক’৷ কী রকম ‘দুষ্টু লোক’, কাদের সম্বন্ধে সে কথা, সে সব বৃত্তান্ত বাঙালিকে নতুন করেশোনানোর প্রয়োজন পড়ে না৷ তবে, একটা কথা ভেবে দেখার মতো৷ সাজানো বাগান প্রথম আমি মান্নাদাকে কবে সামনাসামনি দেখেছিলাম, তা আজ আর মনে নেই৷ মনে নেই, কারণ সেই প্রথম দর্শন আজ থেকে এতটাই আগে যে, ভালমতো সব কিছু মনেও পড়ে না৷ কালো আলো শুনলাম ‘রবিবারোয়ারি’র এই সংখ্যা বের করা হচ্ছে নেলসন ম্যান্ডেলাকে নিয়ে৷ যদিও ম্যান্ডেলা এখনও সরকারি ভাবে প্রয়াত নন, তাঁকেএখনও মৃত বলে ঘোষণা করা হয়নি, কিন্ত্ত তাঁর জন্মদিনটি আসন্ন৷ ভুলিনি, লাইব্রেরি থেকে শেষ কোন বইটি এনে দিলাম শিশিরকুমারকে ক্রমশ সময় কমেছে৷ পড়ার সময়৷ যেমন আগ্রাসী ভাবে একটা সময় পড়তাম, বই-বিহনে টানা কয়েকটা ঘণ্টা ভাবতেই পারতাম না, বিশেষ করে ছাত্াবস্থায়, সেই ব্যাপারটা অভিনয়ে আসার পর থেকে ক্রমশ ফিকে হতে থাকল৷ উত্তমদার সঙ্গে আমার জীবনের প্রথম শটটাই ‘এনজি’ হয়েছিল ফিল্মি পরিভাষায় ‘এনজি’ মানে ‘নট গুড’৷ ঠিক হয়নি, শটটা আবার নিতে হবে৷ হালফিল ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে ‘এনজি’ শব্দটা তার আগে ‘গরিমা’, নাকি ‘বিভীষিকা’, কী বলব ঠিক জানি না, হারিয়েছে৷ প্রতি বছর দোল এলেই আমার নির্মলদার কথা মনে পড়ে দোল তো ছেলেবেলা থেকেই আমাদের সকলের একটা উন্মাদনার বিষয়৷ আর ওই গানটা যখন মনে আসে, ‘ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল...’, পলকে বুতে পারি, রংয়ের মাতন যেন আমার দুয়ারে এসে করাঘাত করল৷ অপুর কথা ও কাহিনি আগের দিন সত্যজিত্ রায়ের ছবির সিম্বল নিয়ে কিছু কথা লিখেছিলাম৷ সেই প্রসঙ্গে আরও একটা ব্যক্তিগত স্মৃতি৷ তিন কন্যার কাহিনি, কিংবা তিনটি আকাশ রবীন্দ্রনাথের বিভিন্ন পেন্টিংয়ের দিকে, বিভিন্ন ফাঁকা সময়ে, একাই তাকিয়ে থাকি৷ কেন, তা বুঝিয়ে বলা কঠিন৷ কোন সুদূর হতে আমারমনোমাঝে সে সব ছবি ভেসে আসে, কে জানে৷ খেয়াল করেছেন, এই দৃশ্যে তুলসী চক্রবর্তীর সঙ্গে একটি ছাগলও ছিল? হঠাত্ এমন একটি শিরোনাম কেন, সে কথায় পরে আসছি৷ তার আগে জানাই, আমার গত সপ্তাহের কিস্তিটির পরে যে সব চিঠিপত্র, প্রতিক্রিয়াপেয়েছি, তাতে একটি প্রশ্ন ঘুরেফিরে এসেছে৷ অ্যাই, ওই পাখার সামনে কে? সরে দাঁড়াও! এমন একটি রসিকতা টালিগঞ্জ পাড়ায় একদা অতীব প্রচলিত ছিল৷ তখন এত বাতানুকূল ফ্লোর-টোর হয়নি৷ যদিও প্রায় বছরভর সূর্যের খরতা একইরকম ছিল৷ আরও একটু বেশি গাছপালা ছিল, ঠিক, কিন্ত্ত তাতে ধরিত্রী শীতল হতে পারে, এখানকার এই ট্রপিক্যাল ভূগোলে গরমে সেদ্ধ ফ্লোর ঠাণ্ডা হবে কী করে? ভাষাচর্চা অভিনেতাকে সমৃদ্ধ করে যখন মানিকদা, অর্থাত্ সত্যজিত্ রায় ‘ঘরে বাইরে’ করবেন বলে প্রথম স্থির করেন, সে বহু কাল আগের কথা৷ যখন তিনি সত্যিই ‘ঘরে বারে’ করলেন তারও অনেক আগে৷ আপনারে করো উন্মোচন আজ, আশিতম জন্মদিনে নিজস্ব স্মৃতি-সত্তায় ভ্রমণ চলচ্চিত্র উত্সবে ডে সিকার এই দু’টি ছবি দেখার স্মৃতি অর্ধ শতাব্দী পরেও ভুলিনি গোড়ায় আমার একটা খটকা ছিল, ’৫২ কি ’৫৩, ঠিক মনে পড়ছিল না, স্মৃতি এই বয়সে এসে সামান্য লুকোচুরি খেলে, কিন্ত্ত তারপরে একটু মননিবেশ করে ভাবতে গিয়ে মনে হচ্ছে, বোধহয় ১৯৫২-ই হবে৷ ‘অসুখ’ করার আগে ঋতু বলল, তোমার ওই সুন্দর হাঁটাটা চাই না ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘অসুখ’ ছবিতে আমি কাজ করেছিলাম৷ শুনলাম, ‘রবিবারোয়ারি’র এই সংখ্যাতেও ঋতুর কথা থাকছে, তাই মনে হল ‘অসুখ’ ছবিটা কথাও আসতে পারে এই সূত্রে৷ ভেবে দেখুন তো, ক’টা বাংলা ছবিতে আপনি মিছিলের দৃশ্য দেখেছেন? আগের সংখ্যায় আমি একটি বই প্রসঙ্গে কিছু কথা লিখেছিলাম৷ ‘ফিফটিন নাইন্টি নাইন: আ ইয়ার ইন দ্য লাইফ অব উইলিয়ম শেক্সপিয়র’ নামে সেই বইটি এই মুহূর্তে আমাকে আচ্ছন্ন করে আছে৷ সেই কথাটা পিরে ভাবতে গিয়ে মনে হল, লেখকরা কী ভাবে বিবর্তিত হচ্ছেন, সেই বিবর্তনের প্রভাব তাঁদের উপর কী ভাবে পড়ছে, সে সব বিষয় নিয়ে বোধ হয় আমরা খুব বেশি চিন্তাই করি না৷ ফেলু, তোপসে, জটায়ু তিন অসমবয়সীর গপ্পো যে বন্ধুত্বগুলো না হলেও কিচ্ছু ক্ষতি ছিল না, কিন্তু হয়ে উঠে ভরিয়ে দিল সমস্ত ফাঁকফোকর, এই তিনজনের সঙ্গ তেমনই৷ লিখছেন অনিনদ্য মুখোপাধ্যায় ব্র্যান্ড ফেলুদা বা জেমস ব্র্যান্ড বন্ড এবং ফেলুদার উপন্যাসে এমন কোনও জিনিসের বা ব্র্যান্ডের উল্লেখ থাকে না যা পাঠকের অচেনা৷ এক সময়ে এই দুই চরিত্রই পরিণত হে যান ব্র্যান্ডে৷ কী ভাবে? চিরঞ্জীব আজও সৌমিত্রের অন্যতম এক প্রিয় চরিত্র ‘গোধূলির আলোয় রেল লাইন পেরিয়ে ছুটতে ছুটতে আসছে এক যুবক৷ রেল লাইন পেরিয়ে, লম্বা মাঠ পেরিয়ে, জঙ্গল পেরিয়ে সে পালাচ্ছে৷ চির্জীব৷ লার্জার দ্যান লাইফ এক চরিত্র৷’ ‘জীবনে কী পাবো না’-তে সৌমিত্র ছাড়া আর কাউকে ভাবাটাই অসম্ভব ‘এমনকী উত্তমকুমারও নয়৷ এই খানেই সৌমিত্রর জিত৷ চ্যাংড়া রকবাজ ছোকরার ভূমিকাতেও তিনি একমেবাদ্বিতীয়৷ অতএব, ভেবে নিতে বাধা কোায় সৌমিত্র ছিলেন বলেই ‘জীবনে কী পাবো না’ সফল?’ চলন, বলন, ম্যানারিজম নিয়ে সুদীর্ঘ ভেবে গঙ্গাচরণকে নিখুঁত গড়লেন তিনি মানিকদার ‘ঘরে বাইরে’ ছবিতে অভিনয় করেছিলাম৷ সন্দীপ চরিত্রে৷ সেখানেও আমাকে তাড়া করেছে এই বিতর্ক- সন্দীপ কি ‘ভিলেন’!
Similar books
আত্মপরিচয়
অগ্রপথিকেরা
Bangladesher Ancholic Bhasar Ovidhan (বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান - অখণ্ড)
কাশীধাম
কাশীখণ্ড
কাশী মাহাত্ম্য
কাশী পরিক্রমা